নাটোরে ডিসির পুরানো বাংলোতে পাওয়া গেল একশ’ বস্তা ব্যালট পেপার

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরে ডিসির পুরানো বাংলোতে একটি পুকুর থেকে অস্ত্র খুঁজতে গিয়ে একশ’ বস্তা ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সারঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার(২৯ মার্চ) দুপুরে শহরের কান্দিভিটুয়া এলাকায় ডিসির পুরানো বাংলো থেকে ওই ব্যালেট পেপার উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন রাজশাহীর উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান, নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) একরামুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নাটোর সদর সার্কেল) মাহমুদা শারমীন নেলি, নাটোর সদর থানা পুলিশের কর্মকর্তা ওসি মাহবুর রহমানসহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানান, গত শুক্রবার সকালে নাটোর সদর হাসপাতালের সামনে ডিসির পরানো বাংলোয়য় তালাব পুকুরে দুইজন যুবক বরশি দিয়ে মাছ ধরছিলেন। হঠাৎ বরশি পানির নিচে আটকে গেলে তারা ছুটাতে পানিতে নামে। এসময় একটি কম্বলে আটকে যাওয়া বরশি খুলে দেখে ১টি ইয়ারগান ও ১ দোনালা বন্দুক। পরে বিষয়টি তারা পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। এরপর ডুবুরি দল এসে পুকুরে খুঁজতে গিয়ে আরও ৪টি শর্টগান উদ্ধার করা হয়। প্রশাসনের পূর্বে ঘোষণা অনুসারে আজ শনিবার সকালে ওই পুকুরের পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়। এসময় পুকুরের পাশ থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক বস্তা ব্যালেট পেপার নজরে আসে প্রশাসনের। পরে ওই ব্যালেট পেপার উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় নির্বাচনী কিছু সারঞ্জাম পাওয়া যায়।
নাটোর জেলা প্রশাসনের মেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, যে ব্যালেট পেপারগুলো পাওয়া গেছে, তা সব দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালেট। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যালেট পেপারের যে স্থায়ীত্বকাল তা ৬ মাস। ইতিমধ্য তা সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ থেকে টেন্ডারও হয়ে গেছে। বাকী ব্যালেট পেপার নিয়েও গিয়েছে। এগুলো আমাদের টেজারিতে রাখা ছিল এবং পরবর্তীতে তা উপজেলা নির্বাচনের সময় স্থানান্তর করা হয়। ব্যালেট পেপারগুলো কে বা কারা নষ্ট করেছে তা জানা নেই। নির্বাচন অফিস যে টেন্ডার হয়েছে, টেন্ডার অর্থে আমরা তা ফিরত দিয়েছি।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, গতকাল ডিসির পুরানো বাংলোর পুকুর থেকে ৪টি শর্টগানসহ ৬ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। ওই পুকুরে আরও অস্ত্র আছে কিনা তা খোঁজ করতে পুকুরের পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করা হয়। এসময় পুকুরের পাশ থেকে প্রায় একশ’ বস্তা ব্যালেট পেপার উদ্ধার করা হয়। কতগুলো ব্যালেট তা পরবর্তীতে গণনা করে জানা যাবে।